Home আন্তর্জাতিক অভিশংসনের মুখে ট্রাম্প

অভিশংসনের মুখে ট্রাম্প

189
0

ডোনাল্ড ট্রাম্প- এবং বিতর্ক যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত বিতর্ক সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্ট মনে হয় আর একটিও নেই। সোশ্যাল মিডিয়াতে আক্রমণাত্মক স্ট্যাটাস কিংবা ছবি পোস্ট করা থেকে শুরু করে মার্কিন কংগ্রেস- সবখানেই তার বিচরণের মাঝে রয়েছে উদ্ভট আচরণ।

অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট শব্দটির সাথে ট্রাম্পের পরিচয় পুরনো। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হবার পরপরই গুঞ্জন শোনা যায় যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হবার পেছনে সহায়তা করেছে রাশিয়া সরকার।

বিষয়টি কংগ্রেসের উপর ছেড়ে দেওয়ার পর কয়েক মাস আগে তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ, অভিশংসনের ছোবল থেকে কোনমতে বেঁচে ফেরেন তিনি। এরই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার অভিসংশনের ঝুঁকির মুখে পরার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তার সাথে এবার বিতর্কে যুক্ত হয়েছে যার নাম, তিনি হলেন আসন্ন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন; যিনি কিনা বারাক ওবামার শাসনামলে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আর বিতর্কের কারণ লুকিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত দেশ ইউক্রেইনে। বিতর্কের গভিরে লুকিয়ে আছে তেল ও গ্যাস ব্যবসার স্বার্থ।

সহজ ভাষায় যদি বলি, জো বাইডেনের পুত্র হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিযোগ ছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যেন তারা বাইডেন পরিবারের কথিত ‘দুর্নীতির’ ব্যাপারে তদন্ত করে।

ট্রাম্প চাপ প্রয়োগের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি এটা স্বীকার করেছেন যে জুলাই মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ফোনে কথা বলার সময় তিনি জো বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টারের ‘দুর্নীতির’ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

ট্রাম্প-বাইডেন দ্বন্দ্বের ইতিহাস

২০১৪ সালের কথা। তখন জো বাইডেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট, এবং ইউক্রেনের ব্যাপারে মার্কিন নীতি কি হবে তার একজন মুখ্য নির্ধারক। আর ঠিক সে সময়ই তার ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বুরিসমার একজন পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।

তখনই প্রশ্ন উঠেছিল যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলে যদি ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির পরিচালক হন – তাহলে এক্ষেত্রে বাইডেন পক্ষপাতহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কি না, অর্থাৎ এখানে একটা ‘স্বার্থের সংঘাত’ হচ্ছে কিনা।

তখন ইউক্রেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্ট সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। সেই সময়টা জো বাইডেন ঘন ঘন ইউক্রেন সফরে যাচ্ছিলেন।২০১৬ সালে বাইডেন ইউক্রেন সরকারের ওপর চাপ দিয়েছিলেন – যাতে তারা তাদের শীর্ষ কৌঁসুলি ভিক্টর শোকিনকে বরখাস্ত করে।

বাইডেন নিজেই বেশ গর্ব করে এই চাপ দেবার কথা স্বীকার করেছিলেন এক বক্তৃতায়।তিনি বলেছিলেন, আমি ইউক্রেনীয়দের বললাম, আমি এখানে ৬ ঘন্টা আছি। তোমরা যদি শোকিনকে বরখাস্ত না করো, তাহলে তোমাদের যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ পাবার কথা, তা দেয়া হবে না।

এ চাপের কারণ কী? কারণ হলো বুরিসমা কোম্পানির মালিকের দুর্নীতির তদন্ত করছিলেন এই শোকিন। ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের অভিযোগ, বাইডেন তার ছেলেকে সুরক্ষা দেবার জন্যেই এ কাজ করেছিলেন।

অভিশংসন নিয়ে তদন্তের বিস্তারিত গড়পড়তা

আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে অত উত্তেজনা নেই। যা দেখা যায়, তাও ওই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরে। কিন্তু চলমান অভিশংসন তদন্ত মোটাদাগে সবাইকে রাজনীতির প্রতি মনোযোগী করে তুলেছে। আর প্রায় সব আমেরিকানেরই এ তদন্ত নিয়ে নিজস্ব অভিমত রয়েছে। উঠে এসেছে সিএনএনের জরিপেই। এই অংশটির দৃষ্টি অবশ্য ট্রাম্পের করা ন্যায়-অন্যায়ের দিকে নয়। তাদের প্রশ্নটি হলো, ‘ট্রাম্প কি অভিশংসিত হচ্ছেন?

তদন্তের অগ্রগতি দেখে বলার সুযোগ নেই ট্রাম্প অভিশংসিত হবেন কিনা। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করাতে পারবেন বলে দৃঢ়বিশ্বাসী। আর তদন্তের প্রতিবেদনটি সামনে আসার সাথে সাথেই বিষয়টি আরও ভালভাবে বোঝা যাবে।

যদি ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষে অভিশংসনের প্রস্তাবটি পাস করাতে পারে তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হবেন আমেরিকার ইতিহাসের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট, যিনি এই অসম্মানজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবেন। সর্বশেষ অভিশংসিত হয়েছিলেন বিল ক্লিনটন ১৯৯৮ সালে। তারও অনেক আগে ১৮৬৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনকেও পরতে হয়েছিল এমন পরিস্থিতিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here