Home অর্থনীতি পটুয়াখালীতে মাছের ব্যাপক সরবরাহ এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের সংখ্যাই বেশি।

পটুয়াখালীতে মাছের ব্যাপক সরবরাহ এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের সংখ্যাই বেশি।

229
0

পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলসহ দক্ষিণ উপকূলে নদ-নদী ও সাগরে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের সংখ্যাই বেশি। আর বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় মাছের দাম এখন মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। বর্তমানে বাজারে যেসব মাছ মিলছে, এর মধ্যে ইলিশ, পোয়া (পোমা), আইড় থেকে শুরু করে অন্তত অর্ধশত প্রজাতির মাছ। মৎস্য খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর থেকেই সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে হাটবাজারে এখন সারা বছরই নদী ও সাগরের মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, গত কয়েক বছরে জেলার নদ-নদী ও সাগরে মাছের উৎপাদন বাড়ছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে জেলার নদ-নদী ও সাগারে মাছের উৎপাদন ছিল ৫৯,১৫৬ মেট্রিক টন। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জেলার নদ-নদী ও সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়ে দাড়ায় ৬৫,৮০৯ মেট্রিক টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে জেলার নদ-নদী এবং সাগরে মাছের উৎপাদন হয়েছে ৭০,২৯০ মেট্রিক টন। মৎস্য বিভাগ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান অর্থবছরে মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

পটুয়াখালী শহরের নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে এক কেজি সাইজের ইলিশ ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এর আগে ১১০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। এ ছাড়া দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের আইড় প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হতো। প্রতি কেজি পোয়া (পোমা) ১৫০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। এভাবেই বিভিন্ন মাছের দাম এখন অনেকটা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বলে জানান ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

পটুয়াখালী পুরান বাজার এলাকার মৎস্য বিক্রেতা ইদ্রিস গাজী জানান, গত ১৫-২০ দিন যাবত মাছের সরবরাহ ভালো, দামও অনেকটা কম। মানুষ তেমন একটা দরাদরি করে না।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোলস্না এমদাদুল্যাহ জানান, সরকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ইলিশের প্রজনন মৌসুম যেমন নিরাপদ করেছে, তেমনি জাটকা সংরক্ষণেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছোট ফাঁসের জাল এবং কারেন্ট জাল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশপাশি মাছের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা এবং সাগরে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে এখন মাছ যেমন বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি মাছের বংশবৃদ্ধি এবং উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মৎস্য উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’র যে প্রবাদ তা আবারও বাস্তবতা লাভ করবে বলে মনে করেন মৎস্য খাত-সংশ্লিষ্টরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here