২০২০ থেকে জিপিএ-৫ থাকছে না জেএসসি-জেডিসিতে

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল জিপিএ-৫ উঠিয়ে দিতে যাচ্ছে সরকার।

জেএসসি-জেডিসিতে জিপিএ-৫ তুলে দিচ্ছে সরকার, এর বদলে ফল সর্বোচ্চ ৪ ভিত্তিক জিপিএতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছিলাম জেএসসি-জেডিসিতে এ বছর থেকেই ৪ ভিত্তিক জিপিএ কার্যকর করতে। কিন্তু মনে হল এবার করতে গেলে বেশি তাড়াহুড়ো হবে। এটা বোধহয় সমীচীন হবে না। তাই আমরা পুরোটা বিশ্লেষণ করে আগামী বছর থেকে এটা কার্যকর করব বলে আশা করছি।

জিপিএ-৫ এর প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের পুরো জীবনটাকে বিষিয়ে তুলছে বলে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, আমার মনে হয় আমরা যত কম জিপিএ-৫ নিয়ে কথা বলি তত আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভালো। জিপিএ-৫ আমাদের মাথা থেকে বের করে দেওয়া উচিত।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার জায়গায় গুণগত মান উন্নয়নের চেষ্টা করছি। সেজন্য পুরো মাইন্ডসেটের পরিবর্তন করতে হবে। দেখতে হবে আমাদের শিশুরা কোন কোন বিষয়ে কাজ করছে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম গড়ে উঠছে কিনা, শিক্ষার্থী কমিউনিকেটিভ হচ্ছে কিনা, চিন্তা করতে পারছে কিনা, তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটছে কিনা।

আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ বাড়াতে পারছি কিনা, সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারছি কিনা? আমরা জিপিএ নিয়ে পরিবর্তন করে গ্রেডিং করার কাজ করছি। আমরা ধারাবাহিক মূল্যায়নের দিকে যাচ্ছি।

সমাপনী পরীক্ষাগুলোতে জিপিএ-৫ তুলে দিয়ে কীভাবে মূল্যায়ন করতে পারি, সে বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে, আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি।’শিক্ষার্থীরা পাস করছে এবং ভালো নম্বর পাচ্ছে, দেখার বিষয় তো সেটিও হওয়া উচিত। আমাদের শিক্ষার্থীরা শিখছে কিনা, আনন্দের সঙ্গে শিখছে কিনা, নিজেদের যে সুপ্ত প্রতিভা আছে সেটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করতে পারছি কিনা সেগুলোই মুখ্য হওয়া উচিত।

আমরা এ বিষয়গুলো ধারাবাহিক মূল্যায়নে নিয়ে আসছি। আগে এক সময় দেখা যেত, বাচ্চা বিষয়গুলো না শিখলেও নম্বর যুক্ত হতো। এখন আর সে সুযোগ থাকছে না। আমরা নতুন করে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতি পাইলটিং ভিত্তিতে চালু করছি।

সেখানে প্রতিটি কাজ শিক্ষার্থীকে করতে হবে। শিক্ষকদেরও সেগুলো ডিজিটালি ইমপুট দিতে হবে, কেন্দ্রীয়ভাবে তা এসে যাবে। কাজেই মূল্যায়ন পদ্ধতিগুলো আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখছে কি না, তাদের নিজেদের যে প্রতিভা আছে সেটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করতে পারছি কি না, এই বিষয়গুলোই আমাদের দেখা উচিৎ। জিপিএ-৫ জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না।

তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষা ছাড়া সমাপনী পরীক্ষাগুলোতে পুরো গ্রেডিং সিস্টেমটা তুলে দিয়ে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেটি নিয়ে এখন কাজ করছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*